Amardesh
আজঃ    আপডেট সময়ঃ

দৌলতপুরে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ৮ শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন

জালাল উদ্দিন ভিকু, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ)
গত কয়েক দিনে থেমে থেমে বৃর্ষ্টি ও যমুনা - ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা, বাঘুটিয়া,চরকাটারী, জিয়নপুর, খলশী,চকমিরপুর এই ৬ টি ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে চলতি মাসে হঠাৎ বর্ষার পানি বৃদ্ধি নদীর করাল গ্রাসে ও ভাঙ্গনে ফলে প্রায় ৮ শতাধিক বসত ভিটা বাড়ি ঘর,পাকা রাস্তা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,হাট বাজার সহ,আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। যমুনা চরাঞলের চরকাটারী ইউনিয়নের নদীর ভাঙ্গনের শিকার এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ ঘর বাড়ি জিনিস পত্র নৌকা যোগে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ লোক জন যমুনা নদীর চরে নিজের ভিটে মাটি হারিয়ে অন্যের জমির উপর বাড়ি ঘর জিনিস পত্র নিয়ে খোলা আকাঁশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত এক মাসে যমুনার ভাঙ্গনে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের চুয়াডাঙ্গা,বাচামারা ঘোষপাড়া, কল্যানপুর ,বাচামারা উওর খন্ড,সুবুদ্দিয়া, চরকাটারী ইউনিয়নের কাঠাল তলি, লালপুর ,চরকাটারি ডাক্তার পাড়া, বাগপাড়া, মন্ডলপাড়া, কামার পাড়া, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি,রাহাত পুর, কাশিদারামপুর,ব্রামনদী, পুড়ান পাড়া, পারুরিয়া,জিয়নপুর ইউনিয়নের বরটিয়া, লাউতারা, বৈন্যা, আমতলী,আবুডাঙ্গা, খলসী ইউনিয়নের রোহা, পাররোহা,চকমিরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর,কালিকাবাড়ি এই ২০ টি গ্রামের প্রায় ৮ শতাধিক পরিবারের বসত ভিটা আবাদি জমি জমা বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। সেই সাথে বাচামারা-দৌলতপুর সড়কের বৈন্যা নামক স্থানে প্রায় ৫ ফুট পাকা সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে । গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- চরকাটারী মন্ডলপাড়া গ্রামের নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পলান শেক,জাহিদ মন্ডল, মোশারফ হোসেন জানায়, গত কয়েক দিন যাবৎ নদী পানি বাড়া সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ১/২ শত বাড়ি ঘর জমি –জমা নদিতে ভ্যাংগা গেছে। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্র¯ অনেক লোকজন জায়গা ভাড়া করে পার্শ্ব বর্তী নাগরপুর উপজেলার ফৈজপুর, মাইজাইল সহ চরে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া যাদের টাকা পয়সা দিকে সচ্ছল তারা নৌকা যোগে আশ্রয়ের খোজে শহরের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। জিয়ন পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো:বেলায়েত হোসেন জানান- হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির ও বৃষ্টির ফলে কাচা রাস্তা, বাড়ি ঘর ধসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।ভাঙ্গনে ফলে বাচামারা-দৌলতপুর সড়কের বৈন্যা নামক স্থানে প্রায় ৫ ফুট পাকা সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে । এদিকে আমতুলী হাই স্কুল,আমতুলী গরু হাট,আমতুলী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বৈন্যা পাকা রাস্তা,২/৩টি ব্রীজ ভাঙ্গনের সম্মুখিন হয়ে পরেছে। চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান- এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনের সাথে জীবন সংগ্রাম করে চলছে। এদিকে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির ও বৃষ্টির ফলে কাচা রাস্তা, বাড়ি ঘর ধসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । সরকার ভাঙ্গন রোধে দীর্ঘ মেয়ার্দী পরিকল্পনা ও বেঁড়ীবাধ নির্মাণ না করলে বাচামারা ইউনিয়ন সহ চারটি ইউনিয়ন একসময় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন পারভীন জানান, পানি বৃদ্ধি ও অতি বৃষ্টির ফলে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমতুলী হাই স্কুল,আমতুলী গরু হাট,আমতুলী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বৈন্যা পাকা রাস্তা,২/৩টি ব্রীজ যমুনা নদীর ভাঙ্গনের হুমকির মুখে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা প্রতি বছর যেভাবে ভাঙ্গনের ফলে শ,শ বাড়ী ঘর আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে সরকার ভাঙ্গন রোধে কোন পদক্ষেপ না নিলে দিন দিন দৌলতপুর উপজেলা মানচিত্রে ছোট হয়ে যাবে।