Amardesh
আজঃ
 
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

'বরখাস্তকৃত পুলিশের ফৌজদারি আইনে বিচার হওয়া দরকার'

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সিলেটে সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের ফৌজদারি আইনে বিচার হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।
সিলেটে সামিউল এবং কোম্পানীগঞ্জের মিলন হত্যাকা- নির্মম, অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন পর্যবেক্ষণ করছে সামিউল হত্যার বিচার যেন দ্রুত হয়। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের ফৌজদারি আইনে বিচার হওয়া দরকার।
মঙ্গলবার সিলেটে সামিউলের বাড়িতে যান মিজানুর রহমান। সেখানে তিনি নিহত সামিউলের মা, বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সান্তনা দেন।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নোয়াখালীর কিশোর মিলন হত্যার বিচার নিয়ে মানবাধিকার কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কড়া চিঠি দিয়েছে। কমিশন বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে।
মিজানুর বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, সামিউল হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। এই আশ্বাস কেবল আশ্বাস থাকলেই হবে না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, প্রকৃত অর্থেই এর দ্রুত বিচার হবে। যদি এই মামলা নিয়ে কোনো টালবাহানা চলে, তাহলে কমিশন চুপচাপ বসে থাকবে না।
দায়িত্বে অবহেলার জন্য যে তিনজন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাঁদের অপরাধ ফৌজদারি অপরাধের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন মিজানুর। তিনি বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা তো হবেই, এর বাইরে তাঁদের অপরাধ ফৌজদারির সমতুল্য। তাই ফৌজদারি আইনেও তাঁদের বিচার করা উচিত।
মিজানুর বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত পুলিশ সদস্যদের আচরণগত ত্রুটি নিয়ে কাজ করা। আইনি সহায়তার জন্য মানুষ থানায় যান। পুলিশের কাছ থেকে তাঁরা এ রকম আচরণ প্রত্যাশা করেন না।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আসামিরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, রাষ্ট্রের উচিত সব ধরনের ফাঁকফোকর দূর করে তাঁদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। দ্রুত সময়ে যেন এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়। এই চার্জশিটে যেন কোনো পদ্ধতিগত ত্রুটি না থাকে। আসামিরা যেন কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। যতক্ষণ না এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ আমাদের নজরদারি থাকবে।
সামিউল হত্যা মামলায় সৌদি আরবে পালিয়ে থাকা আসামি কামরুল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি সরকারের সদিচ্ছা থাকে তাঁকে ফিরিয়ে আনা কষ্টকর নয়। কামরুলকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ রাষ্ট্র যে ধরনের আশ্বাস দিয়েছে সেটা যেন কেবল কথায় সীমাবদ্ধ না থাকে। আমরা দেখতে চাই কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় মুখোমুখি করা হয়েছে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের কিশোর শামছুদ্দিন মিলন হত্যার বিচার সম্পর্কে মিজানুর বলেন, এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো দফারফা হতে পারে না। এটি আইনের লঙ্ঘন। মানবাধিকার কমিশন এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কড়া চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।