Amardesh
আজঃ
 
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সীমান্তে পাচারে কে এই মেজদা

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»

সামনে কোরবানির ঈদ। তাই সীমান্তের এপার-ওপারে পাচারকারীরা সক্রিয়। সুবিধাটা করে দিয়েছে বর্ষা। তারপর রয়েছে বিঘার পরে বিঘা বিশাল পাটখেত। ঘোর বর্ষায় বিশাল পাটখেতের আড়ালে নাকি গরু পাচারের মওকা চলছে। আর এই পাচারের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী এক মেজদা। কে এই মেজদা, প্রশ্ন উঠেছে এই নিয়ে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
খবরে বলা হয়, বর্ষা পড়তেই সীমান্তের উদ্দেশে বড় ট্রাক, পেপসি (সীমান্তে ছোট গাড়িকে বলা হয় পেপসি) সবই ছুটছে জেলা পুলিশের কোনও ‘মেজদা’-র নির্দেশে। মেজদা কে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলছেন, ‘এই বয়সে চাকরিটা খোয়াতে চাই না। তবে মেজদার কথা বললে জেলা পুলিশের কোনও অফিসারের ক্ষমতা নেই সেই গাড়ি আটকানোর। এর বেশি আর কিছু বলা যাবে না। অসুবিধা রয়েছে।’
সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় গরু নিয়ে আসা হয় বড় ট্রাকে। পুলিশ কিংবা বিএসএফ একটু কড়া হলেই সেই বড় ট্রাক উধাও হয়ে যায়। শুরু হয় ‘পেপসি’-র রমরমা।
বর্ষায় ঝড়ের প্রকোপ থাকলে তো কথাই নেই। বিকেলের ঠিক আগে আগেই সীমান্তের নির্দিষ্ট জায়গায় জড়ো করা হয় গরু। যেই ধুলো উড়িয়ে ঝড় শুরু হয় ঠিক সেই সময়ে গরু নিয়ে একছুটে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ। বর্ষায় বড় আড়াল পাটখেত। লম্বা পাটগাছের আড়ালে বিএসএফের নজর এড়িয়ে সোজা চলে যাওয়া যায় সীমান্তের ওপারে।
মুর্শিদাবাদের রানিনগর পাচারের একটি পরিচিত নাম। এই সীমান্তের কিছু এলাকা একেবারে বাংলাদেশের গ্রাম লাগোয়া। এমনকী সেই গ্রামে পৌঁছাতে গেলে পদ্মা পার হওয়ারও ঝুঁকি নেই। তা ছাড়া চার কিলোমিটার বাদ দিলে প্রায় গোটা সীমান্তে কোনও কাঁটাতার নেই।
বিএসএফ কর্তাদের দাবি, একে ঘোর বর্ষা। তার উপরে রয়েছে বিঘের পরে বিঘে পাটখেত। ফলে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য এখন চরমে। এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও কড়া নজরদারি চালিয়ে সম্প্রতি এই সীমান্ত এলাকা থেকে বেশ কিছু গরু, মোষ ও কাশির সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওই বিএসএফ কর্তার দাবি।
বিএসএফের ক্ষোভ, বর্ষায় এই পাটগাছই যত নষ্টের মূলে। বহুবার প্রশাসনের কাছে বিএসএফ পাট নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। বিএসএফের ১৩০ ব্যাটেলিয়নের এক কর্মকর্তা বলছেন, ‘আমরা চাষিদের কোনও ক্ষতি চাই না। কিন্তু সীমান্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার বিষয়টিও। পাটের পরিবর্তে সীমান্ত এলাকায় বিকল্প কোনও চাষে প্রশাসন যদি চাষিদের উৎসাহিত করত তাহলে পাচারে অনেকটাই রাশ টানা যেত।’
বিএসএফের অভিযোগ, প্রশাসন পাচার রুখতে কোনওভাবেই তাদের সাহায্য করছে না। তাদের প্রশ্ন, ‘পুলিশ সক্রিয় হলে এত রাস্তা পেরিয়ে একেবারে সীমান্তে এই গরু-মোষগুলি আসছে কী করে? পুলিশের একটা অংশের মদত ছাড়া এটা কি সম্ভব?’
অন্যদিকে এমন অভিযোগ উড়িয়ে জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘ওই একই প্রশ্ন তো আমরাও করতে পারি। বিএসএফের একটা অংশ মদত না দিলে কী ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে হাজার হাজার গরু যাচ্ছে বাংলাদেশে?’