Amardesh
আজঃ
 
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দুদকের জালে রাজউক কর্মকর্তা

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর বেশকিছু বহুতল ভবনের নকশা অনুমোদন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একটি চক্র।
রাজউকের অথরাইজড অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) ও বিসি কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুল মান্নানসহ ওই কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে নকশা অনুমোদনের কপি মালিকপক্ষকে সরবরাহ করে ওই জালিয়াতচক্র। আর এ কাজে অন্তত ১০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। যার নেতৃত্ব দিয়েছেন অথরাইজড অফিসার মিজান।
এ প্রসঙ্গে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নথি-পত্র সংগ্রহ করেছে। যাচাই-বাছাইয়ের কাজও শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের তলব করা হতে পারে।
দুদককে দেওয়া এমনই একটি অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, রাজউকের মহাখালী জোনাল অফিসের আওতায় বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ-এর ৩৫ ও ৩৭ নং প্লটটি অথরাইজড অফিসার-৪/১ এর আওতাধীন। ওই অফিসেই অতি দ্রুততার সঙ্গে সংশোধিত নকশা অনুমোদনের ফাইলে সই জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
২০১৪ সালের ১৩ অক্টোবর অথরাইজড অফিসার-৪/১ সুকমল চাকমা সদস্য (পরিকল্পনা) ও বিসি কমিটির সভাপতির কাছে চিঠি আকারে একটি অভিযোগ জমা দেন (স্মারক নং- রাজউক/নঅঅ-৪/১/আর৩সি-১৭৩/১৪/৯৭ স্বাঃ তারিখঃ ১৩/১০/১৪)।
ওই চিঠির বিষয় বস্তুতে সুকমল চাকমা বলেছেন, প্লট নং-৩৫, ৩৭ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী ঢাকাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে নকশা অনুমোদন হয়েছে।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ওই প্লটে ডা. আবু সালেহ, মো. আমিনুল মাওলা গংদের নিযুক্ত আম-মোক্তার ক্যাপ্টেন শামীম আহমেদের (অব.) নামে এ দপ্তরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর চারটি বেজমেন্টসহ ১৯ তলা বাণিজ্যিক ইমরাতের সংশোধিত একটি নকশা জমা দেন। যার নথি নং- ৩সি-১৭৩/১৪।
এ নথিটি অথরাইজড অফিসার-৪/১ এর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ২/১ এর অথরাইজড অফিসার মো. মিজানুর রহমান সংস্থার নকশা গ্রহণকারী কর্মচারির (মো. রফিকুল ইসলাম) কাছে জমা দিতে আসেন। কিন্তু নথিতে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার আটটি ছাড়পত্র সঠিক না থাকায় তা নিতে আপত্তি জানান রফিকুল ইসলাম। তবে নাছোড়বান্দা মিজানুর রহমান নথিটি জমা নেওয়ার জন্য রীতিমতো চাপ প্রয়োগ করে নথি গ্রহণে বাধ্য করেন।
চিঠির সূত্রে আরো জানা যায়, রেকর্ড পাঠানোর পর এমআইএসে এন্ট্রি হয়ে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য ইমারত পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেনের কাছে নিয়ে যান অথরাইজড অফিসার মিজানুর রহমান। ইমারত পরিদর্শক নথিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, প্রস্তাবিত নকশাটি চারটি বেজমেন্টসহ ১৯ তলা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সেবাসংস্থাগুলোর ছাড়পত্র ১৫ তলার। তাই তিনি রিপোর্ট দিতে পারবেন না। ওই সময় তিনি (আওলাদ) মূল নথিসহ নকশাগুলো নিয়ে সদস্য (পরিকল্পনা) ও বিসি কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে মিজানুর রহমানকে জানান।
সূত্র আরো জানায়, মিজানুর রহমান নিজেকে আর্কিটেক্ট পরিচয় দিয়ে সব কিছু ঠিক আছে এই মর্মে নথিটি কমিটিতে উপস্থাপন করতে বলেন। এরপর ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নথিটি বিসি কমিটিতে উপস্থাপন করেন পরিদর্শক আওলাদ। পরে তিনি বিসি কমিটির চেয়ারম্যানসহ অন্য সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য হাতে হাতে মূল নথিটি নিয়ে যান। তবে বিসি কমিটির চেয়ারম্যানসহ অনেকেই নথিতে সই না করলেও পরবর্তীতে সেখানে তাদের জাল স্বাক্ষর করেন মিজানুর রহমান।
২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে নথি’র নির্মাণ অনুমোদনপত্র তৈরি করা হয়। ওই বছর ১ অক্টোবর কমিটি’র সবার সই দেখে স্বাক্ষর করেন পরিদর্শক আওলাদ। এরপর মো. সাইফুল ইসলাম নামের এক কর্মচারীকে ডেকে এনে নকশা ইস্যু করান মিজানুর রহমান। নকশা ইস্যুর পরে তা চোখে পরে অথরাইজড অফিসার-৪/১ সুকমল চাকমার। পরে বিষয়টি কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের জানালে জালিয়াতির প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে।
পরবর্তী সময়ে বিসি কমিটি মিজানুর রহমানকে নকশাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হলেও তা ফেরত দেননি। বরং নথিতে রাখা সেবা সংস্থার ছাড়পত্রগুলো উধাও হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
এরইমধ্যে ওই অভিযোগের বিষয়ে ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজউকের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়ে সদস্য (পরিকল্পনা) ও বিসি কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুল মান্নান দায়ী অথরাইজড অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতিসহ বিভাগীয় তদন্তের অনুরোধ করেন।
বর্তমানে এ সব অভিযোগ দুদকের উপপরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম অনুসন্ধান করছেন