Amardesh
আজঃ
 
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পুলিশী সহায়তায় বাড়ি ফিরলো ভিটেয়াড়া ঝিনাইদহের ৩৫টি পরিবার

টিপু সুলতান, ঝিনাইদহ
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনের ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যেগে সদর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নে দীর্গদিন ধরে ঘরবাড়ি ছাড়া ৩৫টি পরিবার অবশেষে নিজ বসত বাড়িতে ফিরে এসেছে। সামাজিক কোন্দলের কারণে দুই বছর ধরে তারা ভিটে ছাড়া ছিলেন। পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে তাদেরকে বাড়ি পৌছে দেওয়া হয়। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ জানান, ঝিনাইদহের পোড়াহাটি ইউনিয়নের ইস্তেগাপুর ও মধুপুর গ্রামে সামাজিক কোন্দলের জের ধরে ১৫টি পরিবার ঘর ছিল। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পলাতক এ পরিবারগুলো শহরে ঘর ভাড়া করে কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। ফুরসন্ধি ইউয়িনের দিঘিরপাড় গ্রামের ২০টি পরিবার একই ভাবে সামাজিক কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলার আশংকায় বাড়ি ছাড়া ছিল। পলাতক পরিবারগুলো বাড়ি ফেরার জন্য ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনের কাছে আবেদন করেন। পুলিশ সুপার অসহায় পরিবারগুলোতে নিজ নিজ বাড়িতে তুলে দিতে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথকে দায়িত্ব দেন। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়ে সদর থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ স্থানীয় সামাজিক নেতাদের সাথে বৈঠক করে একটি সমঝোতায় উপনীত হন এবং পরিবারগুলোকে বাড়ি ফিরতে সহায়তা করেন। বাড়ি ফেরা পরিবারগুলোর মধ্যে ইস্তেগাপুর গ্রামের হাসানুজ্জামান তিতু, আব্দুল মজিদ, আবুল বাশার, আব্দুল করিম, লুৎফর রহমান, আবুল কালাম, কিয়াম হোসেন, ইউনুচ আলী, মিঠু হোসেন ও মধুপুর গ্রামের মিলন হোসেন, মনিরুল ইসলাম ও আজিজুলসহ ১৫টি পরিবার রয়েছে। একই ভাবে দিঘিরপাড় গ্রামের পলাতক মান্নান বিশ্বাস, রেজোয়ান, বাবুল হোসেন, সেলিম আলী, ইউনুচ আলী, গোলাম আলী, আব্দুল ওহাব, নিয়ামুলসহ ২৫টি পরিবারকে পুলিশের উদ্যেগে তাদের বাড়িতে তুলে দেয়। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, যাদের জন্মভুমি বসত ভিটা ছেড়ে পলাতক জীবন যাপন করবে এটাতো আমরা মেনে নিতে পারিনা। এ খবর পাওয়ার পর থেকে দ্রæত তাদের বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এর পর থেকে এ ধরনের কোন খবর শোনা মাত্রই আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। বাড়িতে ফিরে আসা হাসানুজ্জামান তিতু জানান তিনি বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি। তিনি জানান পোড়াহাটি ইউনিয়নের মধুপুর দাখিল মাদ্রসার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ তাদের উপর হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের ভয়ে আমরা ১৫টি পরিবার বাড়ি ফিরতে পারছিলাম না। পুলিশ বাড়ি ফিরতে আমাদের সহায়তা করেছে। ফুরসন্ধি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিকদার জানান, আমার ইউনিয়নের দিঘির পাড় গ্রামের ২০টি পরিবার দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পলাতক ছিল। তারা আমার সামাজিক দল করার কারনে প্রতিপক্ষের ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছিলো না। পুলিশ তাদের বাড়ি ফিরতে সহায়তা করেছে। এ জন্য তিনি পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে ধন্যবাদ জানান।