Amardesh
আজঃ
 
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বদলগাছীতে পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর এল.জি.এস.পি’র কাজ শুরু

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নওগাঁর বদলগাছীতে এল.জি.এস.পি’র প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি সংবাদ “দৈনিক উত্তর কোণ” এবং “দৈনিক আমার দেশ অনলাইন পত্রিকায়” ০২ আগষ্ট প্রকাশিত হলে এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়।সেই সাথে বিভিন্ন ইউ.পি. চেয়ারম্যান গণ তৎপর হয়ে ওঠে। ঘটনায় প্রকাশ ২০১৪-২০১৫ ইং অর্থবছরে এল.জি.এস.পি’র আওতায় উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ৩০ জুনের মধ্যে কাজগুলো সমাপ্ত করার কথা থাকলেও কোন কাজ না করেই যোগসাজশ করে ইউ.পি. চেয়ারম্যানগণ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হুসাইন শওকত এর আহবানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা অলি আহমেদ রুমী চৌধুরী এবং উপজেলা প্রকৗশলী মোঃ মনিরুজ্জামান প্রকল্পের কাজগুলো দেখার জন্য ইতিপূর্বে নির্বাচিত নওগাঁ জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান আল এমরান হোসেন এর বালুভরা ইউনিয়নে যান। গিয়ে তারা হতবাক হয়ে যান।তাঁরা প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান গুলোতে গিয়ে দেখেন ১০টি প্রকলেপর কোথাও ১ ইঞ্চি কাজও হয়নি এবং ১১নং প্রকল্পে আরচা নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১,০০,০০০/= টাকার আসবাবপত্র সরবরাহের কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক জানান , বিগত অর্থবছরে একটি টাকার কোন জিনিসও তারা পান নাই। সংগে সংগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হুসাইন শওকত ঐ ইউ.পি. চেয়ারম্যান আল এমরান হোসেন কে মোবাইল করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানা যায়। ২৮ জুলাই পুনরায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা অলি আহমেদ রুমী চৌধুরী , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হুসাইন শওকত,সহকারী কমিশনার (ভূমি ) আনোয়ার সাদাত ,উপজেলা প্রকৗশলী মোঃ মনিরুজ্জামান প্রকল্পের কাজগুলো দেখার জন্য বিলাশবাড়ী ইউনিয়নে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান ৪ টি প্রকল্পের আংশিক কাজ হয়েছে । অবশিষ্ট ১১টি প্রকল্পের কোন অস্তিস্তই নেই।এভাবে না জানিয়ে পরিদর্শনের বিষয়টি ইউ.পি. চেয়ারম্যানগণ ভাল চোখে দেখেননি।শুরু হয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে ইউ.পি. চেয়ারম্যানদের মনঃস্তাত্তি¡ক লড়াই।চেয়ারম্যানেরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রবাগান্ডা ছড়াতে থাকে। ২৯ জুলাই উপজেলা পরিষদের মাসিক সম্বন্বয় সভায় ইউ.পি. চেয়ারম্যানগণ তোপের মুখে পড়তে পারেন এই আশংকায় কোন ইউ.পি. চেয়ারম্যানই সভায় উপস্থিত হন নাই। ৩১ জুলাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা অলি আহমেদ রুমী চৌধুরী নওগাঁ প্রেসক্লাবে এই বিষয়টি নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।এদিকে ০২ আগষ্ট “দৈনিক উত্তর কোণ” এবং “দৈনিক আমারদেশ অনলাইন পত্রিকায়” এল.জি.এস.পি. প্রকল্পের কাজ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ পেলে ইউ.পি. চেয়ারম্যানগণ দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেন।অবশেষে উপজেলা পি.আই.ও’র মধ্যস্থতায় ০২ আগষ্ট বেলা সাড়ে ৩ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ইউ.পি. চেয়ারম্যানগণের মাঝে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়।বৈঠকে উভয় পক্ষের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির কারনে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে সবাই একমত হন।এই বৈঠকে উপজেলার ৮জন ইউ.পি. চেয়ারম্যানের মধ্যে ৭জন উপস্থিত হন এবং অসুস্থতার কারনে একজন উপস্থিত হতে পারেন নাই।বৈঠকে ইউ.পি. চেয়ারম্যানগণ অতিদ্রæতই এল.জি.এস.পি’র কাজগুলো শেষ করবেন এবং সেগুলো পরিদর্শনের জন্য আহবান জানান।এভাবে দ্ব›েদ্বর আপাতত অবসান ঘটে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।সেই সাথে কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে কাজ শুরুও হয়ে গেছে।