Amardesh
আজঃ
 
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মানবপাচারের শিকার নবীগঞ্জের মনির হোসেনকে ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা পরিবারের

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সমুদ্র পথে মানব পাচারের শিকার নবীগঞ্জ পৌর এলাকার মনির হোসেন দীর্ঘ ৪ মাস ধরে থাইল্যান্ডের জেলে মানববেতর জীবন করছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। এদিকে ছেলের দূর্ব্যবস্থার খবর পেয়ে পরিবার নেমে এসেছে হাহাকার। মা’য়ের মুখের হাসিঁ ¤øান হয়েগেছে। নেই কোন আনন্দ ও উল্লাস। গেল ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছিল না ওই বাড়িতে। মা-বাবা, ভাই-বোনের আর্তনাত কবে ফিরে আসবে মনির হোসেন। এ ব্যাপারে গেল ২৩ জুন ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের মানব পাচার মনিটরিং সেল’এ আবেদন করেছিল মনিরের ভাই মামুন হোসেন। আবেদনে তার ভাই মনির হোসেনকে থাইল্যান্ডের জেল থেকে দেশে ফেরৎ আনাসহ সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও উক্ত আবেদনের বিষয়ে কোন অগ্রগতি নেই বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের লোকজন। অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেয়া থাইল্যান্ডের জেলে আটক মনির হোসেন নবীগঞ্জ পৌর এলাকার হরিপুর গ্রামের নজির মিয়ার ছেলে। পারিবারিক ও অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, বিগত ২রা এপ্রিল চট্রগ্রামে কাজ করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এর ২/৩ দিন পরে মালয়েশিয়ার দালাল নবীগঞ্জের হালিতলা গ্রামের ফরতাব মিয়ার ছেলে সুমন ওরপে মোহন ভাল কাজ ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেয়। দালালের খপ্পড়ে পরে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায় মনির হোসেন। প্রায় ১ মাস পর ৬৬৯৩৬০৫৪১১৯ নাম্বার থেকে ফোন করে মনির হোসেন ঘটনার বিবরণসহ তার বিপদের কথা পরিবারকে জানায়। এবং দালাল সুমন ওরপে মোহনকে টাকা দিয়ে বন্দি দশা থেকে তাকে মুক্ত করার জন্য পিতা-মাতাকে অনুরুধ করে। এর ১ দিন পরে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত উক্ত দালাল সুমন ওরপে মোহন ০০৬০১৬৩০৫২৮৭/ ০০৬০১১৪১৬৫৬৯৫৩ নাম্বার থেকে ফোন করে মনির হোসেনের মা-বাবাকে জানায় মনির মালয়েশিয়ায় পৌছে গেছে। তবে সুমন ওরপে মোহনের পিতা ফরতাব মিয়ার কাছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিলে সে মনিরকে মালয়েশিয়ায় ভাল কাজের ব্যবস্থা করে দিবে অন্যতায় জেলে পচতে হবে। ছেলের সুখের আশায় এবং দালাল মোহনের কথা বিশ্বাস করে হতদরিদ্র মনিরের পরিবার ধারকর্জ করে বিগত ৫মে মোহনের পিতা ফরতাব মিয়ার নিকট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। টাকা পাওয়ার এক সপ্তাহ পরে সুমন ওরপে মোহন মনিরের বাড়িতে ফোনে জানায় মালয়েশিয়াতে পুলিশ রেড দেওয়ার কারনে মনিরসহ অনেক লোক জঙ্গলে থেকে পালিয়েছে। এর পর থেকে মনির ও মোহনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মনিরের পরিবার চলে কান্নার রুল। এরমধ্যে বিগত ৬ই জুন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি +৬০১৬২৯৩৮৪৭১ নাম্বার থেকে ফোন করে +৬৬৯৪৩১৪৪২১০ নাম্বারে ফোন দিলে মনিরকে পাওয়া যাবে বলে জানায়। ওই নাম্বারে মনিরের পরিবার ফোন দিলে মনির জানায় সে থাইল্যান্ডের জেলে আছে। ৪ হাজার টাকা জরিমানার জন্য ২০ দিন কারাভোগ করে থানাতে আনা হয়েছে। একপর্যায়ে মোহনসহ অপর এক দালাল +৬০১৬২৯৩৮৪৭১ নাম্বারে মনিরের বাড়িতে ফোন করে আরো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবী করে। টাকা দিলে জেল থেকে বের করে আনা হবে, অন্যতায় জেলে থাকবে। এর পর থেকে পরিবারের লোকজনের সাথে দালালদের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানের মনির হোসেন কোথায় আছে, কি ভাবে আছে তার পরিবার জানেন না। সমুদ্র পথে পাড়ি দেয়া ও থাইল্যান্ডের জেলে আটক মনির হোসেন এর স্ত্রী, অবুঝ সন্তান ও স্বজনদের মধ্যে চলছে মনিরকে হারানোর অজানা আতংক। তারা মনিরকে স্বদেশে ফেরৎসহ মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। তাদের দাবী নবীগঞ্জের হালিতলা গ্রামের ফরতাব মিয়াকে আটক করলেই তার ছেলে সুমন ওরপে মোহনকে পাওয়া যাবে। এবং তাদের পেলেই মনির হোসেন এর প্রকৃত হদিছ বের হয়ে আসবে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতার দাবী করেন মনিরের পরিবার।